মাধবপুরে দেশীয় খাবার দিয়ে বিক্রির জন্য ১১৮ টি গরু পালন করেছেন এক খামারী


mdfaisalchowdhury mdfaisal প্রকাশের সময় : জুলাই ৭, ২০২২, ১০:০১ পূর্বাহ্ন /
মাধবপুরে দেশীয় খাবার দিয়ে বিক্রির জন্য ১১৮ টি গরু পালন করেছেন এক খামারী

হামিদুর রহমান,মাধবপুর থেকে ॥
আর মাত্র কয়েক দিন পর কোরবানির ঈদ। কোরবানির ঈদে সাধ্যমত কোরবানি দিতে চেষ্টা করেন সবাই। পছন্দমত গরু কিনতে অনেকেই ছুটে যান বিভিন্ন হাটবাজারে। কোরবানির ঈদ কে টার্গেট করে খামারিরা বিভিন্ন উপায়ে গরু মোটাতাজাকরন নিয়ে ব্যাস্ত থাকেন। কিছু খামারিরা যখন ইনজেকশন দিয়ে বা বিভিন্ন উপায়ে গরু মোটাতাজা করেন তখন ঠিক উল্টো দেশীয় খাবার ঘাস ও দানাদার খাদ্য দিয়ে ঈদে বিক্রির জন্য ১১৮ টি গরু প্রস্তুুত করেছেন মাধবপুর উপজেলার এক খামারি। উপজেলার ধর্মঘর ইউনিয়নের নিজনগর গ্রামের আব্দুল গফুর মাষ্টারের ছেলে সফিউল বর খোকন। তিনি সরকারি কর্মকর্তা হলেও শখের বসে ১৫ বছর আগে যুব উন্নয়স থেকে প্রশিক্ষন গ্রহন করে গ্রামে নাবা বহুমুখি এগ্রোফার্ম নামে একটি একটি গরু খামার গড়ে তুলেন। প্রথম বছর ১০ টি গরু দিয়ে শুরু করেন খামার। তারপর আস্তে আস্তে বৃদ্ধি করে এখন তার খামারে ১ শ ১৮ টি ষাড় গরু রয়েছে। খামারের শ্রমিক সুমন দাস জানান,আমরা এখানে ৫ জন কাজ করি। আমরা ১২ হাজার করে বেতন পাই। আমাদের সংসার সুন্দর করে চলতেছে। এখানে গরু আছে ১১৮ টি। খামারের শ্রমিক রিপন মিয়া জানান ,আমরা কোরবানি ঈদে বিক্রি জন্য প্রস্তুুত রয়েছি। বিভিন্ন এলাকা থেকে আমাদের ফার্মের মধ্যে পাইকার আসছে। গরু ক্রেতা শাহ আলম জানান,এখনে অনেক ষাড় আছে। এখানে এসেছিলাম গরু কিনার জন্য। একটি গরু কিনেছি। রোজার ঈদেও এখান থেকে ৮ টি গরু কিনেছি। এখানে অনেক টাকার গরু আছে। ৩ লাখের উপরেও আছে সাড়ে ৩ লাখ , ২ লাখ , আড়াই লাখ, এক লাখ, ১ লাখ ২০ হাজার টাকার দামের গরু আছে। যে যেটা চায় সেটাই আছে। প্রজনন কেন্দ্রের এআই ট্যাকনিশিয়ান নাজমুল হাসান জানান, সব ধরনের গরু আছে। আর্টিফেশিয়াল অথবা ইনজেকশন এই গুলো আমরা ব্যবহার করি না। শুধু মাত্র কাঁচা ঘাষ ও দানাদার খাবার দিয়েই আমরা গরু লালন পালন করি।
খামারের মালিক সফিউল বর খোকন জানান,যুব উন্নয়নে প্রশিক্ষণ নিয়ে প্রথম গরু পালন শুরু করি। প্রায় ১৫ বছর আগে থেকেই গরু পালন শুরু করি। প্রথম বছর ১০ টি ছিল, তারপর ২০ টি। তারপর আস্তে আস্তে বেশি করে গত বছর থেকে ব্যাপক আকারে শুরু করি। গত বছর ছিল ১ শ টি। এই বছর ১ শ ১৮ টি গরু কোরবানির জন্য প্রস্তুুত করি। এ বছর মোটামুটি খামারে ভাল গরু আছে। আশা করি এই বছর ভাল ফলন পাব। আশা করি বাকি গুলো ভাল দামে বিক্রি করতে পারব। ১ কোটি ২০ লাখ টাকার মত খরচ হয়েছে। আশা করি ২ কোটি টাকার উপর বিক্রি করতে পারব।
মাধবপুর উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. আব্দুস সাত্তার বেগ জানান,সফিউল বর চৗধুরীর খামার টি পরিদর্শন করেছি। পরিদর্শন করে যেটি মনে হল এই খামার টি আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে তৈরী করা। এই খামার টি থাকার কারনে এলাকার অনেক বেকার যুবকের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে। এবং এই খামার টি দেখে অনেক যুবক উত্যাক্তা হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। আমরা এই খামার সংশ্লিষ্ট সহ সবাই কে সহ মাধবপুর উপজেলার অনেক খামারি কে আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে কি ভাবে কোরবানির পশু মোটা তাজা করা যায় সেই রকম প্রশিক্ষন দিয়েছি। আমরা ঈদ উপলক্ষ্যে কোরবানির হাট গুলো আছে সে গুলো মনিটরিং করার জন্য দুটি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। মাধবপুরে কোরবানির জন্য পশুর সংখ্যা যেটি আছে মাধবপুরের চাহিদা মিটিয়ে বাইরে রপ্তানি করা সম্ভব।