ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হুন্ডি ব্যবসায় কোটিপতি সৌদী প্রবাসী ইদন চৌধুরী; অবৈধ সম্পদের খবর জানেন না দুদক


তরফ বার্তা প্রকাশের সময় : জুলাই ২৪, ২০২২, ৯:১৬ পূর্বাহ্ন /
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হুন্ডি ব্যবসায় কোটিপতি সৌদী প্রবাসী ইদন চৌধুরী; অবৈধ সম্পদের খবর জানেন না দুদক

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলায় সৌদি আরব প্রবাসী কুখ্যাত হুন্ডি ব্যবসায়ী ইদন চৌধুরী হুন্ডি ব্যবসা করে কোটিপতি বনে গেছেন। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে অবৈধ এ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন দীর্ঘদিন ধরে। প্রবাসে বসেই অবৈধ ব্যবসা করলেও জানেনা কেউ। তার সাথে রয়েছে তরাই শ্যালক সৌদী প্রবাসী রাসেল মিয়া। জিরো থেকে হিরো বনে যাওয়া এই ইদন চৌধুরীকে নিয়ে অজানা রহস্যের জন্ম দিয়েছে এলাকায়। অবৈধ সম্পদের রহস্যের খবর জানেন না কর কমিশনার কিংবা দুদক। তার বাড়ি কসবা উপজেলার সয়দাবাদ (তালের পট্টি) গ্রামে। তার বাবার নাম মৃত করিম মুন্সি চৌধুরী।

জানা যায় , ১৫/২০ বছর আগে ইদন চৌধরী পরিবারের দৈন্যতা সইতে না পেরে সৌদী আরবে পাড়ি জমান। সেখানে কিছুদিন থাকার পর গড়ে তোলেন হুন্ডি ব্যবসার সেন্ডিকেট। সৌদীতে থাকা শ্রমিকের টাকা দেশে পাইয়ে দিতে ইদন চৌধুরী হুন্ডি ব্যবসা শুরু করেন। দেশেও নিয়োগ দেন কমিশন এজেন্ট। প্রতিদিন ইদন চৌধুরী এ ব্যবসায় প্রায় কয়েক লাখ টাকা গুনে দিচ্ছেন পাওনাদারদের । কোনো একাউন্ট লাগে না এ ব্যবসায়। বিকাশের মতই নাম্বার নাম ঠিকানা মিলে গেলে টাকা পেমেন্ট হয়ে যায়। ইদন চৌধুরী টাকার লেনদেন করে থাকেন সৌদী আরবে বসেই। এভাবেই মাত্র কয়েক বছর ধরে হুন্ডি ব্যবসা করে কোটিপতি বনে গেছেন তিনি।

প্রশাসনের নজরের বাহিরে রয়ে গেছে তার এ ব্যবসা। তার এলাকার লোকজনের সাথে আলাপ করে জানা যায়, ইদন চৌধুরী বহু টাকার জায়গা-জমি রেখেছে।  তার নিজ গ্রামে আয়ের উৎস নিয়ে গুঞ্জন সৃস্টি শুরু হয়েছে এলাকায়। সৌদী আরবে থাকা এক যুবকের সাথে কথা বলে জানা যায়, ইদন চৌধুরীর কোন চাকরি বা কোন কাজ নেই। সে বেকার থাকা অবস্থায় হুন্ডি ব্যবসা করে লাভবান হচ্ছেন।

খবর নিয়ে জানা গেছে, ইদন চৌধুরীর নিজ নামীয় একাউন্ট আছে স্থানীয় ব্যাংকে। এছাড়া তার আত্মীয়দের নামেও কয়েকটি একাউন্ট রয়েছে। এসব একাউন্ট নিয়মিত লেনদেন করে ইদন চৌধুরী। এভাবেই প্রতিদিন লেনদেন হচ্ছে হুন্ডি নামক এ ব্যবসায়। সরকারের রেমিট্যান্স ফাঁকি দিয়ে রাতারাতি কোটিপতি বনে গেছেন তিনি।

ইদন চৌধুরীর সম্পদের উৎস নিয়ে জিজ্ঞেস করলে তার এলাকার কেউ ই কোন সদুত্তর দিতে পারেননি। কসবা থানার অফিসার ইনচার্জ জানান, হুন্ডি ব্যবসার খবরটি আমার জানা নেই। এখন জানলাম- খোঁজ নিয়ে দেখব।

এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ দূতাবাস ও প্রশাসনের প্রতি জোর দাবী জানান সৌদীতে অবস্থানরত প্রবাসীরা ।

(বিস্তারিত জানতে চোখ রাখুন আগামী পর্বে…)