বাহুবল উপজেলা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা: চেয়ারম্যান পুত্র সৈয়দ ইসলামকে খুঁজছে পুলিশ!


mdfaisalchowdhury mdfaisal প্রকাশের সময় : জুলাই ২, ২০২২, ২:৪১ অপরাহ্ন /
বাহুবল উপজেলা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা: চেয়ারম্যান পুত্র সৈয়দ ইসলামকে খুঁজছে পুলিশ!

অনৈতিক সুবিধা না দেয়ায় আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন

মিরপুরের চেয়ারম্যান শামীম – উপজেলা চেয়ারম্যান

ফয়সল চৌধুরী:: বাহুবল উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দ খলিলুর রহমানের বিরুদ্ধে অনাস্থা দিয়েছেন খোদ উপজেলা মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান ও সকল ইউপি চেয়ারম্যানগণ। এ প্রতিবেদকের সাথে মোবাইল ফোনে আলাপকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পরিষদের মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান নিলুফার ইয়াছমিন, ভাদেশ্বর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জান বশির ও লামাতাসী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আ.ফ.ম উস্তার মিয়া তালুকদার।

গত ২৮ জুন সিলেট বিভাগীয় কমিশনার বরাবরে এ অনাস্থা প্রস্তাব প্রেরণ করা হয়। ভাদেশ্বর ইউনিয় পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জান বশির জানান, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদের জন্য নির্দিষ্ট বরাদ্দে ভাগ বসানো সহ নানা অনিয়ম ও দূর্নীতির কথা অনাস্থা পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, নিয়মানুযায়ী অভিযোগের বিষয়গুলো বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাহুবল উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দ খলিলুর রহমান বলেন, “বিষয়টি আমি শুনেছি। তবে দাপ্তরিক কোন কাগজপত্র পাইনি।” তিনি আরো বলেন, “অনৈতিক সুবিধা না দেয়ায় মিরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শামীম আহমেদ আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন। তার নেতৃত্বে একটি কুচক্রি মহল আমার বিরুদ্ধে উঠেপড়ে লেগেছে।”

এদিকে, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান “সানজিদা এন্টারপ্রাইজ”র সত্ত্বাধিকারী আবু নাসের মোহাম্মদ অলিউর রহমানের দায়ের করা চুরি মামলার অন্যতম আসামী উপজেলা চেয়ারম্যান পুত্র পলাতক সৈয়দ ইসলামকে গ্রেফতার করতে অভিযান অব্যাহত রেখেছে পুলিশ। এছাড়া একই মামলার অপর আসামী উপজেলা চেয়ারম্যানের নাতি গ্রেফতারকৃত সৈয়দ মামুনকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বাহুবল মডেল থানার এস.আই মোঃ জসিম উদ্দীন।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি বাহুবল সদর ইউনিয়নের লোহাখলা -টু- ভেড়াখাল নামক সড়কে ৫০০ মিটার দৈর্ঘ্য ও দুই মিটার প্রস্থের ইটসলিং এর জন্য ১৯ লাখ টাকার প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায় “সানজিদা এন্টারপ্রাইজ” নামক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। কয়েকদিন আগে প্রকল্পের কাজ চলমান অবস্থায় কিছু মালামাল চুরি হয়।

এ ঘটনায় উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দ খলিলুর রহমানের নিজ গ্রাম লোহাখলার বাসিন্দা সামছু নামের এক ব্যাক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হলে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতারের পর মামলা তুলে নিতে ঠিকাদারকে অনুরোধ করেন উপজেলা চেয়ারম্যান। কিন্তু মামলার বাদী এতে রাজি না হওয়ায় সামছু মিয়াকে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়।

এ অবস্থায় উপজেলা চেয়ারম্যান ও ঠিকাদারের মধ্যে তৈরী হয় দূরত্ব। পরে ওই প্রকল্পের বিল উত্তোলন করতে গেলে বেঁকে বসেন উপজেলা চেয়ারম্যান। তবে বিলে সাক্ষর করার জন্য উপজেলা চেয়ারম্যানকে অনুরোধ করেন উপজেলা প্রকৌশলী। এতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাও সম্মতি দেন ।

একপর্যায়ে গত ২৯ জুন বুধবার সকালে প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনে যান ইউএনও ও উপজেলা চেয়ারম্যান। এসময় উভয়ের মধ্যে ঘটে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের ঘটনা। মূহুর্তেই ঘটনাটির ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরে আরেকটি চুরি মামলা দায়ের করেন ঠিকাদার। ওই মামলায় উপজেলা চেয়ারম্যান পুত্র সৈয়দ ইসলাম ও নাতি সৈয়দ মামুনসহ ৩ জনকে আসামী করা হয়। মামলা দায়েরের পর আসামী সৈয়দ মামুনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।