ঋণের শর্তের জালে ঢুকছে বাংলাদেশ?


তরফ বার্তা প্রকাশের সময় : জুলাই ২৩, ২০২২, ৪:২৬ পূর্বাহ্ন /
ঋণের শর্তের জালে ঢুকছে বাংলাদেশ?
বাংলাদেশে আইএমএফ এর প্রতিনিধিরা এখন সফর করছেন। তারা প্রত্যাশা করছেন, খুব শীঘ্রই হয়তো সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে একটি ঋণের জন্য আবেদন করবেন। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকেও জানা যাচ্ছে যে, সংকট সমাধানের জন্য বাংলাদেশ আইএমএফের কাছ থেকে ঋণ গ্রহণ করবে। আর এই ঋণ গ্রহণ করলে দীর্ঘ এক দশক পর আবার আইএমএফ এর ঋণ গ্রহণ করবে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ সর্বশেষ আইএমএফ থেকে ঋণ গ্রহণ করেছিল ২০১২ সালে। এরপর বাংলাদেশে যে অর্থনৈতিক উন্নতি এবং স্বনির্ভরতা, তার কারণে বিদেশি ঋণের নির্ভরতা থেকে বাংলাদেশে সরে এসেছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে আবার আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মহলের কাছে বাংলাদেশকে হাত পাততে হচ্ছে। আর আইএমএফের এই ঋণ গ্রহণ করা হলে অনেকগুলো শর্ত মানতে হবে বাংলাদেশকে। এইসব শর্তের মধ্যে রয়েছে, ভর্তুকি কমানো, রাজস্ব আয়ের আধুনিকীকরণ, ব্যাংক ব্যবস্থাপনার আধুনিকীকরণ এবং খারাপ ঋণ গুলোকে চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া ইত্যাদি। বিশ্বব্যাংক, আইএমএফসহ আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাগুলোর ঋণ মানেই এক ধরণের শর্ত এবং এই শর্তগুলো এমনভাবে একটি দেশকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে দেয় যে সেই দেশগুলো স্বাধীন সক্রিয়নীতি-কৌশল গ্রহণ করতে পারে না। মূলত আইএমএফ বা বিশ্বব্যাংকের যে শর্তগুলো সেই শর্তগুলো নিয়ন্ত্রণ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং এই ধরনের ঋণ গ্রহণ মানেই হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আরও বেশি শর্তে জড়িয়ে যাওয়া। মূলত আইএমএফ বা বিশ্বব্যাংকের ঋণগ্রহণকারী দেশগুলো আসলে শেষ পর্যন্ত মার্কিন বশ্যতাই স্বীকার করে।
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের ব্যাপারে একের পর এক ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন। অন্যদিকে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাশির ওপর যে নিষেধাজ্ঞা সেটির কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন যে, এটিও এক ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘন। আর এই বাস্তবতায় আইএমএফ এর কাছ থেকে বাংলাদেশে যে ঋণ গ্রহণ করবে সে ঋণ বাংলাদেশকে আরো বেশি পশ্চিমাদের ওপর নির্ভরশীল করবে এবং পশ্চিমা শর্তের মুখোমুখি দাঁড় করাবে বলে জানা যায়।
বাংলাদেশের সূত্রগুলো বলছে যে, বাংলাদেশ ৪.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ গ্রহণ করতে যাচ্ছে আইএমএফ থেকে। এই ঋণ গ্রহণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ বর্তমান সংকট সমাধান করতে পারে বলে জানা গেছে। সুশীলরা ইতিমধ্যে এ ঋণ গ্রহণকে স্বাগত জানিয়েছে। ঋণ গ্রহণের বিষয় নিয়ে অর্থমন্ত্রী এক ধরনের লুকোচুরি খেলছেন। তিনি কখনো বলছেন যে, বাংলাদেশের ঋণ দরকার নেই, আবার আইএমএফ এর ভূমিকারও প্রশংসা করছেন। তবে বিভিন্ন সূত্রগুলো নিশ্চিত করছে, বাংলাদেশ ঋণ গ্রহণ করতে যাবে। নির্বাচনের দেড় বছর আগে এই ঋণ গ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশ কি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শর্তগুলোর জালে জড়িয়ে যাচ্ছে, এই প্রশ্ন উঠেছে এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে। বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সুশাসন, গণতন্ত্র, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলছে। আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক সবসময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দ্বারা নিয়ন্ত্রিত এবং প্রভাবিত। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কারণে বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের পদ্মা সেতু থেকে সরে এসেছিল। বাংলাদেশের যে অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা সেই অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতাই বাংলাদেশকে রাজনৈতিক নিজস্বতা দিয়েছে এবং নিজস্ব উদ্যোগে নির্বাচন এবং রাজনীতি পরিচালনার সক্ষমতা দিয়েছিল। এখন আইএমএফের নতুন ঋণ বাংলাদেশকে কি নতুন রাজনৈতিক চাপে ফেলবে? এই প্রশ্নটি রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় হয়ে উঠছে।